প্রবা
প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০২৪ ১০:১১ এএম
শান্তি ফিরুক,
নৈরাজ্য দূর হোক
ক্রান্তিকাল অতিক্রম
করছি আমরা। অনিয়ন্ত্রিত এক পরিস্থিতি বিরাজ করছে চারপাশে। ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট
করে ভয়ানক নৈরাজ্যের সৃষ্টি করেছে দুর্বৃত্তরা। গত দুই দিনেই দেশজুড়ে বহু হতাহত ও খুনের
ঘটনা ঘটেছে। সরকার পতনের পর গণভবন দিয়েই শুরু হয় দুর্বৃত্তায়ন। এরপর একে একে রাজধানীসহ
সারা দেশে যেভাবে সরকারি-বেসরকারি স্থাপনার ওপর হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং লুটপাট ঘটেছে
তা নজিরবিহীন। দেশের বিভিন্ন জেলায় সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও মন্দিরে
হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট ঘটার অভিযোগও উঠেছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের
মন্দিরে হামলার ছবিও সংবাদমাধ্যমে এসেছে। থানা আক্রমণ, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, হামলা এবং
পুলিশ সদস্যদের হত্যার ঘটনার খবর সংবাদমাধ্যমে আসছে। যার মাধ্যমে দেশের আইনশৃঙ্খলা
ভেঙে পড়ার কথা উঠেছে, যা দুর্বৃত্তদের দুর্বৃত্তপনা উস্কে দিচ্ছে। এ নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি
দ্রুত স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিতে হবে। ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত
করতে হবে। রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় সবারই উদ্যোগী হতে হবে।
মাহবুব হাওলাদার
বাউফল, পটুয়াখালী
শান্তি প্রতিষ্ঠাই
প্রথম
দুর্বৃত্তরা বর্তমান
সংকটময় পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকার গঠন প্রক্রিয়া চলমান। ইতোমধ্যে
মহামান্য রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী প্রধানগণ এবং সব রাজনৈতিক দলের
নেতাদের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সবার সম্মিলিত সিদ্ধান্তক্রমে অন্তর্বর্তী সরকারের
মাধ্যমে দেশ পরিচালিত হওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানা যাচ্ছে সংবাদমাধ্যমে। ইতোমধ্যে সব
রাজনৈতিক দল এবং সেনাপ্রধানের পক্ষ থেকেও দেশে শান্তিশৃঙ্খলা ফিরিয়ে নিয়ে আসার আহ্বান
জানানো হয়েছে। সেনাপ্রধান শান্তি ফেরাতে সবার সহযোগিতা চেয়েছেন। তার পরও পুরো দেশ দেখছে
মৃত্যুর মিছিল। বিভিন্ন স্থানে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার মতো বেদনাদায়ক ঘটনা ঘটেছে।
প্রতিপক্ষের ওপর হামলা, হত্যা, তাদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনাও ঘটছে। সেই সঙ্গে
বিভিন্ন স্থানে ডাকাতি এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়ি ও উপাসনালয়ে হামলাও ঘটছে। আমরা
এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা আর দেখতে চাই না। আমরা চাই শান্তি ফিরুক। প্রতিটি অন্যায়ের
বিচার হোক। এটাই সময়ের সবচেয়ে বড় আবেদন।
আব্দুল করিম
বানিয়াচং, হবিগঞ্জ
আর নয় হিংসা
প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পরই দেশের নানা স্থানে হত্যা, বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে তৈরি হয়েছে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি। যা একই সঙ্গে উদ্বেগ এবং উৎকণ্ঠার। ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে পুলিশ, আওয়ামী লীগ সমর্থক নেতাকর্মীর বাসাবাড়িতে হামলা, পিটিয়ে হত্যার ঘটনাও ঘটে। এর ফলে মারা যায় শতাধিক মানুষ। এগুলো কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়। এসব যেকোনো মূল্যে বন্ধ করতে হবে। দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ বাংলাদেশে যেকোনো মূল্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে। তরুণ প্রজন্মের অর্জন যেন দুর্বৃত্তদের দুর্বৃত্তপনায় বেহাত হয়ে না যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আমরা আর হত্যা, লুণ্ঠন, হিংসার রাজনীতি দেখতে চাই না।
আমিনুর রহমান
ওয়ারী, ঢাকা